এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, আহমেদাবাদে দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তে বিমানটি যখন উপরে ওঠার জন্য গতি বাড়াচ্ছিল, তখন দুটি ইঞ্জিনের জ্বালানি ‘কাটঅফ' মুডে চলে যায়। এর ফলে ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় ও বিমানের উচ্চতা কমতে থাকে। যদিও পাইলটরা দ্রুত ইঞ্জিন দুটির জ্বালানি সরবরাহ ‘কাটঅফ' থেকে ‘রান' মুডে নিয়ে এসেছিলেন, কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছিল। একটি ইঞ্জিন চালু হলেও অন্যটি চালু করা যায়নি, ফলে ‘থ্রাস্ট' পাওয়া যায়নি।
এই রিপোর্টের পর বিতর্ক শুরু হলে ডিজিসিএ ২১ জুলাইয়ের মধ্যে বোয়িং বিমানের এফসিএস খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মেনেই এয়ার ইন্ডিয়ার ইঞ্জিনিয়াররা বোয়িং ৭৮৭-৮ বিমানটি পরীক্ষা করেন। পরীক্ষার পর উড়ান সংস্থাটি জানায়, ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচে কোনো সমস্যা নেই। শুধু এফসিএস নয়, বিমানের অন্য কোনো অংশেও সমস্যা পাওয়া যায়নি বলে এয়ার ইন্ডিয়া নিশ্চিত করেছে।
বুধবার এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি জারি করা হয়। সেখানে জানানো হয়েছে, আহমেদাবাদে ঘটা দুর্ঘটনার পরে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক উড়ান সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছিল। এই উড়ানগুলি ১ আগস্ট থেকে আংশিকভাবে চালু করা হবে এবং পরবর্তীতে ধাপে ধাপে উড়ানের সংখ্যা বাড়ানো হবে। এয়ার ইন্ডিয়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে সব রুটে পুরোদমে বিমান চলাচল শুরু হবে। সংস্থার বিবৃতি অনুসারে, ১ অগস্ট থেকে পরিষেবা পুনরায় চালু হলে, কিছু রুটে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিষেবা কম থাকবে।আহমেদাবাদে বিমান দুর্ঘটনার প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী বোয়িং ৭৮৭-৮ বিমানের ফুয়েল সুইচে সমস্যার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, এয়ার ইন্ডিয়ার এই বিবৃতির মাধ্যমে তার অবসান হল। উড়ান সংস্থাটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের বিমানে কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি নেই এবং যাত্রী পরিষেবা স্বাভাবিক করার জন্য তারা সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত।