দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন সভা ঘিরে সাংগঠনিক দুর্বলতার অভিযোগ উঠেছে। বিজেপির পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমন্ত্রণপত্র বিলি করা হচ্ছে। আগামী ১৮ জুলাই দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রীর দুটি কর্মসূচি রয়েছে।
বিজেপির সর্বভারতীয় নেতৃত্বের তরফ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সভার জন্য সেভাবে প্রচার করা হয়নি বলে অভিযোগ। মিটিং, মিছিল, বা পথসভা তেমনভাবে আয়োজিত হয়নি। এই কারণে দলের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সভার জন্য আমন্ত্রণপত্র বিলি করছেন। স্থানীয় বিধায়ক লক্ষণ ঘোড়ুইকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপির রাজ্য সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায় বুধবার গোপালমাঠ এলাকায় এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
তবে, এভাবে বাড়ি বাড়ি আমন্ত্রণপত্র বিলি করে কত সংখ্যক মানুষকে সভায় আনা যাবে, তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে চিন্তা রয়েছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব সভাস্থল পরিদর্শন এবং ঘরোয়া বৈঠক নিয়েই ব্যস্ত। এতে জেলার অনেক নেতাই ক্ষুব্ধ। এই পরিস্থিতিতে নেতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমন্ত্রণপত্র বিলি করতে দেখা যায়।
লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, "২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুর্গাপুরে আসছেন, এটাই মানুষের কাছে বড় চমক। সেই জন্য আমরা গোপাল মাঠের মানুষকে সভায় যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।"
দুর্গাপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে বিজেপি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভায় আসার জন্য আমন্ত্রণপত্র বিলি করছেন। কর্মীদের সঙ্গে নেতৃত্বও নেহরু স্টেডিয়ামে ভিড় বাড়াচ্ছেন। তবে, দুর্গাপুর জুড়ে এই 'মেগা ইভেন্ট'-এর প্রচারে বিজেপি ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রচারের অভাবে অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর আগমন সম্পর্কে অবগত নন। সেই কারণেই নেতৃত্ব এখন ঘরে ঘরে গিয়ে আমন্ত্রণপত্র বিলি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে লক্ষণ ঘোড়ুই বলেন, "খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই বড় কর্মসূচি হচ্ছে। তাই বৃহৎ আকারে প্রচার হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার থেকে তিন-চারটি জেলা জুড়ে প্রচার শুরু হবে।"
আগামী ১৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দুটি কর্মসূচি রয়েছে দুর্গাপুরে। যার মধ্যে রয়েছে সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং জনসভা। দুটি অনুষ্ঠানই হবে নেহরু স্টেডিয়ামে। দুর্গাপুরের গান্ধী মোড় থেকে জনসভাস্থল নেহরু স্টেডিয়াম পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার একটি রোড শো করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
সূত্রের খবর, বিহার থেকে অণ্ডাল বিমানবন্দরে নেমে তিনি সড়কপথে গান্ধী মোড়ে পৌঁছবেন। সেখান থেকে রোড শো শুরু হবে। রাস্তার বিভিন্ন মোড়ে বিজেপি কর্মীরা ফুল দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন। রোড শোয়ের পর নেহরু স্টেডিয়ামে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তাঁর।
প্রশাসন ও বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্প, ডিVC-র রঘুনাথপুর ও মেজিয়া কারখানার সম্প্রসারণ, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা গেলের আসানসোল কলকাতা গ্যাস পাইপ লাইন, দক্ষিণবঙ্গের ঘরে ঘরে পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস প্রকল্প, জাতীয় সড়কের বেশ কিছু আন্ডারপাস, ওভারব্রিজ, DSP-র আধুনিকীকরণের মতো প্রকল্পের সূচনা করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
সভা মঞ্চের পাশেই এই প্রকল্পগুলির উদ্বোধন করে তিনি জনসভায় অংশ নেবেন। এরপর নেহরু স্টেডিয়ামের কাছে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট স্টেডিয়ামে তৈরি হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারে করে অণ্ডাল বিমানবন্দরে যাবেন এবং সেখান থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর নিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব দফায় দফায় বৈঠক করছেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি নিয়ে দুর্গাপুরে সভাস্থল পরিদর্শন করবেন এবং কর্মী ও নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন দুর্গাপুর সফর ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং প্রচারের অভাবের মধ্যে, এখন দেখার বিষয় শেষ পর্যন্ত এই কর্মসূচী কতটা সফল হয়।